18 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ২:২৮ | ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
গ্রেট গ্রিন ওয়াল (Great Green Wall)
কৃষি পরিবেশ পরিবেশ গবেষণা পরিবেশ বিশ্লেষন

‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ ২০২৬: মরুভূমি রুখতে আফ্রিকার ঐতিহাসিক সাফল্য

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন বিশ্বের অনেক জায়গায় মরুভূমিকরণ (Desertification) বাড়ছে, তখন আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব নীরব বিপ্লব সফল হতে চলেছে।

আফ্রিকার ২০টিরও বেশি দেশ মিলে যে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ (Great Green Wall) গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, ২০২৬ সালের শুরুতে তার দৃশ্যমান এবং ইতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

এই প্রকল্পটি এখন কেবল গাছ রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম ‘লিভিং ইকোসিস্টেম’ পুনরুদ্ধার প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনেগাল থেকে জিবুতি পর্যন্ত প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সবুজ প্রাচীরের প্রায় ৩৫% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে কয়েক মিলিয়ন হেক্টর অনুর্বর জমি পুনরায় কৃষিকাজের উপযোগী হয়ে উঠেছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা হচ্ছে না, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে। ২০২৬ সালে এই প্রকল্পের নতুন বৈশিষ্ট্য হলো ‘স্মার্ট এগ্রোফরেস্ট্রি’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ড্রোনের মাধ্যমে এখন বীজ বপন করা হচ্ছে এবং মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করে সোলার-চালিত সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই বিশাল বনায়ন প্রকল্প স্থানীয় আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সাহেল অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গত দশ বছরের তুলনায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাটির নিচের জলস্তর (Water table) পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

এর ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং হরিণ পুনরায় এই অঞ্চলে ফিরে আসতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ এখন বৈশ্বিক কার্বন অফসেট বাজারের একটি বড় অংশ দখল করেছে।

উন্নত দেশগুলোর বড় বড় কোম্পানি এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তাদের কার্বন নির্গমনের দায়ভার (Carbon credit) পূরণ করছে।

তবে এই প্রকল্পের সাফল্য কেবল পরিবেশগত নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আনছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খরা এবং সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব আফ্রিকায় দীর্ঘদিনের অভিবাসন ও সংঘাতের কারণ ছিল।

২০২৬ সালে এই সবুজ প্রাচীর স্থানীয় মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করায় অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাতিসংঘ এই মডেলকে বিশ্বের অন্যান্য খরা-প্রবণ অঞ্চলে, যেমন মধ্য এশিয়া এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে।

‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ প্রমাণ করেছে যে, যখন অনেকগুলো দেশ একটি অভিন্ন পরিবেশগত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তখন প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক রূপকে রুখে দিয়ে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত