২০২৬ বিশ্বকাপ এবং ‘জিরো-কার্বন স্টেডিয়াম’: ক্রীড়া জগতের সবুজ বিপ্লব
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্য নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার এক বিশাল বার্তা নিয়ে আসছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরটিকে বলা হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম ‘কার্বন নিউট্রাল ওয়ার্ল্ড কাপ’।
ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) দাবি করেছে যে, এবারের টুর্নামেন্টে নির্গত প্রতিটি গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিপরীতে সমপরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডল থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ‘গ্রিন স্পোর্টস’ মুভমেন্ট ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গ্লোবাল ট্রেন্ড।
বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো এখন কেবল খেলা দেখার জায়গা নয়, বরং সেগুলো এক একটি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। স্টেডিয়ামের ছাদগুলো সম্পূর্ণভাবে উন্নত পারভস্কাইট সোলার প্যানেল দিয়ে ঢাকা, যা কেবল স্টেডিয়ামের নয়, বরং আশেপাশের এলাকার বিদ্যুতের চাহিদাও মেটাচ্ছে।
বৃষ্টির জল সংগ্রহের জন্য প্রতিটি স্টেডিয়ামে রয়েছে আধুনিক ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম। এছাড়া, স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য যেসব খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, সেগুলোর প্যাকেজিং সম্পূর্ণ জৈব-পচনশীল এবং মাঠের ঘাস কাটার পর তা দিয়ে জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ‘ফ্যান ট্রাভেল’। ফুটবল ভক্তদের যাতায়াতের জন্য আয়োজকরা হাজার হাজার ইলেকট্রিক বাস এবং ট্রেন চালু করেছে। যারা বিমানে যাতায়াত করছেন, তাদের টিকেটের সাথে একটি ‘কার্বন অফসেট ফি’ যুক্ত করা হয়েছে, যা দিয়ে আফ্রিকার বনাঞ্চল রক্ষা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ডিজিটাল টিকিটিং বাধ্যতামূলক করার ফলে কয়েক টন কাগজ সাশ্রয় হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড়দের জার্সিগুলো সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা প্লাস্টিক রিসাইকেল করে তৈরি করা হয়েছে।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ‘সবুজ বিশ্বকাপ’ বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বড় বড় স্পনসররা এখন তাদের ব্র্যান্ডের সাথে পরিবেশবান্ধব ইমেজ যুক্ত করতে চাইছে। এই টুর্নামেন্টের সাফল্য দেখে অলিম্পিক এবং অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টগুলোও একই পথ অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৬ সালটি তাই প্রমাণ করছে যে, বিনোদন এবং খেলাধুলাও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। ফুটবল যখন গড়ায়, তখন তার সাথে ঘুরে যায় পরিবেশ রক্ষার চাকাও।
