‘এয়ার প্রোটিন’ এবং ল্যাব-গ্রোন মিট: ২০২৬-এ খাদ্যের নতুন উৎস
গবাদি পশু পালন বিশ্বের মিথেন নির্গমনের অন্যতম প্রধান উৎস। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ২০২৬ সালে মানুষের খাদ্য তালিকায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে—‘এয়ার প্রোটিন’ (Air Protein) এবং ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস।
এখন আর কেবল নিরামিষাশীরা নয়, বরং সাধারণ মাংস প্রেমীরাও পরিবেশ রক্ষার তাগিদে এই বিকল্পগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৬ সালের বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোতে এখন গরুর মাংসের পাশে সমান্তরালভাবে ‘কালচারড মিট’ (Cultured Meat) বিক্রি হচ্ছে, যা এই বছরের সবচেয়ে আলোচিত ফুড ট্রেন্ড।
এয়ার প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াটি অনেকটা জাদুকরী মনে হতে পারে। এটি মূলত এক ধরণের অণুজীব ব্যবহার করে তৈরি করা হয় যা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন গ্রহণ করে প্রোটিনে রূপান্তর করে।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো জমি বা বিশাল পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয় না। ২০২৬ সালের স্টার্টআপগুলো এখন এই প্রোটিন পাউডার থেকে হুবহু মাংসের স্বাদ ও টেক্সচারের খাবার তৈরি করছে। এটি কেবল পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
অন্যদিকে, ল্যাব-গ্রোন মিট বা কালচারড মিট এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এই মাংস উৎপাদনের খরচ গত ৫ বছরের তুলনায় ৯০% কমে গেছে।
সিঙ্গাপুর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে এই মাংস বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ এতে কোনো প্রাণীকে হত্যা করতে হয় না। একে বলা হচ্ছে ‘এথিক্যাল ইটিং’ (Ethical Eating)।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথাগত মাংস শিল্পের ২৫% দখল করে নেবে এই বিকল্প প্রোটিন। এর ফলে কয়েক মিলিয়ন হেক্টর চারণভূমি পুনরায় বনাঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তবে এই রূপান্তরের ফলে যারা প্রথাগত পশুপালনের সাথে জড়িত, তাদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তাই ২০২৬ সালে সরকারগুলো ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ পলিসির আওতায় কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ দেখাচ্ছে। খাবার টেবিলের এই পরিবর্তন ২০২৬ সালে প্রমাণ করছে যে, বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারি।
