‘লং-ডিউরেশন এনার্জি স্টোরেজ’: ২০২৬-এ ব্যাটারি প্রযুক্তির মহাবিপ্লব
নবায়নযোগ্য শক্তির (সৌর ও বায়ু) সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল নিরবচ্ছিন্নতা—সূর্য না থাকলে বা বাতাস না বইলে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না। কিন্তু ২০২৬ সালে এই সমস্যার এক স্থায়ী সমাধান এসেছে ‘লং-ডিউরেশন এনার্জি স্টোরেজ’ (LDES) প্রযুক্তির মাধ্যমে।
লিথিয়াম ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন লোহা-বাতাস (Iron-Air) এবং তরল ধাতু (Liquid Metal) ব্যাটারি বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফল হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের শক্তি বাজারের সবচেয়ে বড় ব্রেকথ্রু এবং ট্রেন্ডি নিউজ।
এই নতুন ধরণের ব্যাটারিগুলো ১০০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ মজুত রাখতে পারে। লোহার মরিচা ধরার রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে এই ব্যাটারিগুলো তৈরি করা হয়েছে, যা লিথিয়ামের তুলনায় ১০ গুণ সস্তা এবং পরিবেশের জন্য অনেক কম ক্ষতিকর।
২০২৬ সালে অনেক বড় বড় শহর এখন তাদের নিজস্ব গ্রিডে এই বিশাল ব্যাটারি ফার্ম স্থাপন করছে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (Peaker Plants) একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই বিপ্লব বিদ্যুতের দামকে অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে দেখা গেছে, অনেক দেশে রাতের বেলা বিদ্যুতের দাম প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে কারণ দিনের বেলা মজুত করা সৌরবিদ্যুৎ এখন সহজেই সরবরাহ করা যাচ্ছে।
এটি শিল্পের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দিচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে। এছাড়া, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল লাগানো গ্রাহকরা এখন তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ এই বড় স্টোরেজ সিস্টেমে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। একে বলা হচ্ছে ‘এনার্জি ডেমোক্র্যাটাইজেশন’।
বিনিয়োগকারীরা এখন লিথিয়াম খনি থেকে সরে এসে লোহা এবং দস্তা (Zinc) ভিত্তিক স্টোরেজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছেন। ২০২৬ সালের এই ট্রেন্ড জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই স্টোরেজ বিপ্লব ছাড়া নিট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব ছিল। ২০২৬ সালটি তাই ইতিহাসের পাতায় ‘স্টোরেজ ইয়ার’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। বিদ্যুতের এই অবাধ ও সস্তা প্রবাহ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চেহারাই বদলে দিচ্ছে।
