এতদিন এআই কেবল প্রশ্নের উত্তর দিত, কিন্তু ২০২৬ সালে এআই এখন নিজ থেকে কাজ করতে শুরু করেছে। একে বলা হচ্ছে ‘এজেন্টিক এআই’ (Agentic AI)। ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বের বড় বড় আবহাওয়া সংস্থা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো এই প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা শুরু করেছে।
এটি কেবল সাধারণ পূর্বাভাস দেয় না, বরং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন—যদি এআই বুঝতে পারে যে আগামী ৩ দিন কোনো এলাকায় সূর্যের আলো কম থাকবে, তবে সে আগেই ব্যাটারি স্টোরেজ থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষা করে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই এআই এজেন্টগুলো ব্যবহারের ফলে শহরের বিদ্যুৎ অপচয় ১৫-২০% কমেছে। এটি এখন ‘ডিজিটাল টুইন’ (Digital Twin) বা পুরো শহরের একটি ভার্চুয়াল প্রতিলিপির মাধ্যমে বিভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতি সিমুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়।
কোনো এলাকায় বন্যার আশঙ্কা থাকলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রেনেজ সিস্টেমের লক গেট খুলে দেয় এবং সাধারণ মানুষের মোবাইলে নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাঠায়। এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কয়েক হাজার জটিল ডেটা সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্লেষণ করে কাজ করতে সক্ষম।
অর্থনৈতিকভাবে এই প্রযুক্তি শহরগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের সাশ্রয় নিয়ে আসছে। দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতির পরিমাণ কমানো এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ফলে ২০২৬ সালে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই প্রযুক্তি আমদানিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।
তবে এই ‘অটোনোমাস ডিশিশন মেকিং’ নিয়ে নৈতিক প্রশ্নও উঠছে—যদি এআই কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার দায় কে নেবে? তাসত্ত্বেও, ২০২৬ সালে এজেন্টিক এআই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সবচেয়ে আধুনিক এবং অপরিহার্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
