জীবাশ্ম জ্বালানির পাইপলাইনের দিন ফুরিয়ে আসছে। ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন এক অবকাঠামো গড়ে উঠছে—হাইড্রোজেন সুপারহাইওয়ে (Hydrogen Superhighway)। উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল নেটওয়ার্কটি আসলে গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহনের জন্য তৈরি।
গ্রিন হাইড্রোজেন হলো এমন এক জ্বালানি যা জল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তৈরি হয় এবং পুড়লে কেবল জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ২০২৬ সালে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
জার্মানি এবং মরক্কোর মধ্যে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে একটি বিশাল হাইড্রোজেন পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। সাহারা মরুভূমির অফুরন্ত সৌরশক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হাইড্রোজেন এখন ইউরোপের ভারী শিল্পকারখানা এবং জাহাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
একে বলা হচ্ছে ‘নতুন এনার্জি সিল্ক রোড’। এই অবকাঠামোর কারণে ডিজেল এবং পেট্রোলের ওপর নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বড় বড় ট্রাক এবং জাহাজগুলো এখন কয়েক মিনিটের মধ্যে হাইড্রোজেন পূর্ণ করে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাইড্রোজেন অর্থনীতি ২০২৬ সালে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, যারা আগে তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এখন নিজেদের ‘হাইড্রোজেন হাবে’ রূপান্তর করছে।
এই পরিবর্তনের ফলে ভূ-রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসছে—তেলের বদলে এখন যে দেশে সূর্যের আলো বা বাতাস বেশি, সেই দেশই বেশি ক্ষমতাধর হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের এই হাইড্রোজেন সুপারহাইওয়ে কেবল একটি রাস্তা নয়, এটি একটি কার্বন-মুক্ত ভবিষ্যতের দিকে মানবজাতির দ্রুততম যাত্রা।
