পৃথিবীতে যখন রাত, মহাকাশে তখন ঝলমলে সূর্য। এই সহজ সত্যটিকে ব্যবহার করে ২০২৬ সালে শক্তি সংকটের এক চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে এসেছে চীন ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)। তারা সফলভাবে মহাকাশ-ভিত্তিক সৌরশক্তি (Space-Based Solar Power – SBSP) প্রকল্পের প্রোটোটাইপ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
এটি এমন এক প্রযুক্তি যেখানে বিশাল সোলার প্যানেলগুলো পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় এবং সেখান থেকে সংগৃহীত বিদ্যুৎ মাইক্রোওয়েভ বা লেজার রশ্মির মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়।
২০২৬ সালের এই ট্রেন্ডি নিউজের বিশেষত্ব হলো, এটি পৃথিবীর মেঘ, বৃষ্টি বা রাতের ওপর নির্ভর করে না। মহাকাশে রাখা সোলার প্যানেলগুলো পৃথিবীর চেয়ে ৮-১০ গুণ বেশি সৌরশক্তি সংগ্রহ করতে পারে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের জিংজিয়ান প্রদেশে নির্মিত একটি বিশেষ রিসিভিং স্টেশনে মহাকাশ থেকে পাঠানো বিদ্যুৎ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা একেবারেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিকভাবে এই প্রকল্প শুরুতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও, ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স এবং অন্যান্য বেসরকারি রকেট কোম্পানির কারণে মহাকাশে মালপত্র পাঠানোর খরচ কমে আসায় এটি এখন লাভজনক হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালে গুগল এবং মাইক্রোসফ্টের মতো টেক জায়ান্টরা এই প্রকল্পে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ শুরু করেছে যাতে তাদের ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য চব্বিশ ঘণ্টা ক্লিন এনার্জি নিশ্চিত করা যায়।
মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ আসার এই দৃশ্যটি একসময় কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও, ২০২৬ সালে এটি আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। পৃথিবী এখন আর কেবল মাটির নিচের কয়লা বা তেলের দিকে তাকিয়ে নেই, বরং আকাশ থেকে নেমে আসা অফুরন্ত আলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
