বিশ্বের কার্বন নির্গমনের প্রায় ৮% আসে সিমেন্ট উৎপাদন থেকে। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
আবুধাবি এবং সিঙ্গাপুরের কিছু স্টার্টআপ সফলভাবে ‘কার্বন-নেগেটিভ সিমেন্ট’ বাজারজাত শুরু করেছে। এই সিমেন্ট তৈরির সময় কার্বন নির্গত তো হয়ই না, উল্টো এটি শুকানোর সময় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষন করে পাথর হয়ে যায়। ২০২৬ সালে এই খবরটি রিয়েল এস্টেট বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এই বিশেষ সিমেন্টে ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্বনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে। এর ফলে একটি ভবন যত পুরনো হয়, সেটি তত বেশি শক্তিশালী হয় এবং পরিবেশ থেকে তত বেশি কার্বন শুষে নেয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে যে, সরকারি যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণে এই কার্বন-নেগেটিভ সিমেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। একে বলা হচ্ছে ‘ফিউচার অফ আরবান মাইনিং’।
এই প্রযুক্তির ফলে অর্থনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে বড় পরিবর্তন আসছে। যেসব দেশ কার্বন ট্যাক্স আরোপ করেছে, সেখানে এই সিমেন্ট ব্যবহার করলে কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ রিবেট বা ছাড় পাচ্ছে। যদিও এই সিমেন্টের প্রাথমিক দাম সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে ১৫% বেশি, কিন্তু কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে সেই খরচ সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।
২০২৬ সালে আবাসন খাত এখন আর পরিবেশের ঘাতক নয়, বরং এটি কার্বন শোষণের একটি বড় মাধ্যম। ইট-পাথরের জঙ্গল এখন আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করছে।
