ঢাকার ফুসফুস খ্যাত বুড়িগঙ্গা নদীকে কয়েক দশক ধরে আমরা বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় বানিয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এক বৈজ্ঞানিক চমৎকারিত্বের সাক্ষী হচ্ছে দেশ।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন ‘PET-ase ২.০’ নামক একটি সুপার এনজাইম, যা প্লাস্টিক বর্জ্যকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পচিয়ে জৈব পদার্থে রূপান্তর করতে সক্ষম।
বিজ্ঞান যখন জাদুকর
দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিসিএসআইআর (BCSIR) যৌথভাবে এই এনজাইমটি তৈরি করেছে। এটি মূলত এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন, যা প্লাস্টিকের শক্ত পলিমার চেইনকে ভেঙে ফেলে।
২০২৬ সালের শুরুতে নদীর কয়েকটি পয়েন্টে এই এনজাইম পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, নদীর তলদেশে জমে থাকা টন টন পলিথিন ও প্লাস্টিক এখন ধীরে ধীরে রাসায়নিকভাবে ভেঙে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: বর্জ্য থেকে সার
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, প্লাস্টিক ভেঙে যে অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে তৈরি হচ্ছে উচ্চমানের নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার। সরকার বুড়িগঙ্গার তীরে তিনটি ‘বায়ো-কনভার্সন প্ল্যান্ট’ স্থাপন করেছে।
এখান থেকে উৎপাদিত সার এখন দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ, নদী পরিষ্কার হচ্ছে আর আমরা সার পাচ্ছি সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
জনসাধারণের অংশগ্রহণ
২০২৬ সালে নদীর তীরে সিসিটিভি ক্যামেরার সাথে এআই যুক্ত করা হয়েছে। কেউ নদীতে প্লাস্টিক ফেললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে এবং তার ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জরিমানা কেটে নেওয়া হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার কালো জল এখন ধূসর হতে শুরু করেছে, আর মাছেরাও দীর্ঘকাল পর ফিরে আসতে শুরু করেছে।
