বাংলাদেশি বন্য হাতির অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে ছিল, তখন ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে শুরু হয়েছে এক অভাবনীয় প্রযুক্তিগত পাহারা।
‘হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব’ কমাতে এবং হাতির অবাধ চলাফেরা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ চালু করেছে ‘স্মার্ট হাতি করিডোর’। যেখানে এআই (AI) চালিত ক্যামেরা এবং থার্মাল সেন্সর হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষা করছে।
এআই যখন হাতির পাহারাদার বিগত দশকগুলোতে রেললাইন পার হতে গিয়ে বা মানুষের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে অনেক হাতির মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালের এই সিস্টেমে বনের সীমান্তে সেন্সর বসানো হয়েছে।
যখনই কোনো হাতি রেললাইনের বা লোকালয়ের কাছাকাছি আসে, সাথে সাথে ট্রেন চালকের কাছে এবং স্থানীয় রেঞ্জ অফিসের মোবাইলে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এর ফলে গত এক বছরে একটিও হাতির দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ঘটেনি।
ওভারপাস ও আন্ডারপাস: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ২০২৬ সালে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ‘Wildlife Overpass’ সফলভাবে চালু হয়েছে।
আমাদের ক্যামেরা টিমে দেখা গেছে, মাদি হাতিরা তাদের শাবক নিয়ে অনায়াসে এই সবুজ ওভারপাস দিয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাচ্ছে। এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
স্থানীয়দের অংশগ্রহণ: এই প্রকল্পের আরেকটি বড় দিক হলো স্থানীয় গ্রামবাসী এখন আর হাতিকে শত্রু মনে করছে না। ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ (ERT)-কে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রযুক্তি ও মানুষের এই মেলবন্ধন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
