বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে এখন আর মানুষ কেবল মাছ বা চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল নয়। ২০২৬ সালে উপকূলীয় বনায়ন এখন একটি ‘কার্বন ব্যাংক’-এ পরিণত হয়েছে।
সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি ‘কার্বন ক্রেডিট ডিস্ট্রিবিউশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষ এখন প্রতি মাসে তাদের লাগানো গাছের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ পাচ্ছে।
কার্বন ক্রেডিট কীভাবে কাজ করছে? সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং খুলনার কয়রা এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে নতুন করে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। এই বনাঞ্চল বছরে যে পরিমাণ কার্বন শোষণ করে, তার হিসাব রাখা হয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একেকটি পরিবার বছরে গড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আয় করছে কেবল গাছ বাঁচিয়ে রেখে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জীবন্ত প্রাচীর: ২০২৬ সালের এই বনাঞ্চল কেবল অর্থ দিচ্ছে না, এটি একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করছে।
২০২৫ সালের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘রেমআল-২’ যখন উপকূলে আঘাত হানে, তখন এই ঘন বন ঢেউয়ের গতিবেগ ৭০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে উপকূলীয় বাঁধগুলো আর ভেঙে যায়নি এবং জানমালের ক্ষতি হয়নি বললেই চলে।
সামাজিক পরিবর্তন: এই প্রকল্পের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে গাছ কাটার হার শূন্যে নেমে এসেছে। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে, গাছ কাটলে একবার টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু গাছ বাঁচিয়ে রাখলে প্রতি বছর টাকা পাওয়া যায়। এটি বাংলাদেশের ‘গ্রিন ইকোনমি’র ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সামাজিক মডেল।
