সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি যখন বিশ্বের উপকূলীয় শহরগুলোকে গ্রাস করতে চাইছে, তখন ২০২৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে যাত্রা শুরু করল বিশ্বের প্রথম ভাসমান শহর ‘ওশেনিক্স বুসান’ (Oceanix Busan)।
এটি কেবল একটি শহর নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মানুষের টিকে থাকার এক আধুনিক কেল্লা। ২০২৬ সালে সমুদ্রের বুকেই এখন মানুষ ঘর বাঁধছে নিরাপদভাবে।
ভাসমান শহরটি কীভাবে টিকে থাকে? এটি মূলত বিশাল বিশাল হেক্সাগোনাল বা ষড়ভুজাকৃতির প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত যা সমুদ্রতলের সাথে শিকল দিয়ে যুক্ত। যদি জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ার আসে, তবে শহরটিও জলের সাথে ওপর-নিচে উঠতে পারে।
২০২৬ সালের এই শহরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এখানে কোনো গাড়ি নেই, যাতায়াত হয় মূলত নৌকায় বা জলপথের ট্রামে।
সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা: এই শহরটি বাইরের জগতের ওপর নির্ভর করে না। শহরের প্রতিটি ভবনের ছাদ সোলার প্যানেলে ঢাকা, যা প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
সমুদ্রের জল পরিশোধন করে পানীয় জল সংগ্রহ করা হয় এবং সব ধরণের বর্জ্যকে রিসাইকেল করে সারে রূপান্তর করা হয়। এটি একটি শতভাগ ‘সার্কুলার সিটি’।
ভবিষ্যৎ মডেল: মালদ্বীপ এবং ভিয়েতনামও ২০২৬ সালে এই ধরণের ভাসমান শহর তৈরির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে চুক্তি করেছে। ২০২৬ সাল আমাদের দেখাচ্ছে যে, সমুদ্র আমাদের জন্য আর কোনো হুমকি নয়, এটিই হবে মানুষের আগামী দিনের থাকার জায়গা।
