জলবায়ু পরিবর্তনের নিজস্ব স্বাভাবিক বৈচিত্র্য এবং বিশ্বজুড়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা তীব্র ‘এল নিনো’ (El Niño)-র দ্বিমুখী প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি খাত এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশি-বিদেশি গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা।
বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন মাসগুলোতে এই প্রাকৃতিক চক্রটি চরম আকার ধারণ করতে পারে, যা দেশের প্রধান ফসলের উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে।
কৃষি ও সার ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব: বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সংস্থার (WFP) সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কা কেবল আবহাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা দেশের সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে:
-
বোরো ও আমন উৎপাদনে সেচ সংকট: বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হলো আমন ও বোরো ধান চাষ, যার পেছনে বিপুল পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি বা সেচের প্রয়োজন হয়। এল নিনোর প্রভাবে অনাবৃষ্টি বা মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালিপনা দেখা দিলে কৃষকদের সেচ খরচ ও উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে।
-
সার ও জ্বালানির চড়া দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে আমদানীকৃত এলএনজি ও জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে কৃষি উৎপাদনে খরচ ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। এর সাথে এল নিনোজনিত খরা ও তাপপ্রবাহ যুক্ত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলায় শুধু গতানুগতিক কৃষিনীতি দিয়ে কাজ চলবে না।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে খরা সহনশীল জাতের ধানের বিস্তার, ভূপৃষ্ঠের পানির সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই সম্ভাব্য খাদ্য সংকট এড়ানো সম্ভব।
