জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহের (Heatwave) কারণে বাংলাদেশে শ্রম সক্ষমতা ও জিডিপিতে মারাত্মক ধস নামছে। ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বৈশ্বিক জলবায়ু ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমন্বিত মূল্যায়নে জানানো হয়েছে যে, অতিরিক্ত তাপের কারণে কাজের ঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় দেশে বছরে সম্ভাব্য প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন (১৭৫০ কোটি) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
কৃষি ও নির্মাণ খাতের মতো উন্মুক্ত স্থানে কাজ করা লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাহীনতা এখন এক চরম বৈশ্বিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়।
মূল তথ্য ও স্বাস্থ্য রূপরেখা: প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ও জাতীয় জলবায়ু নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে:
- প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শিশুদের ঝুঁকি: সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে চরম তাপপ্রবাহের শিকার শিশু ও নবজাতকদের ঝুঁকি ১৬২ শতাংশ এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ১৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি ও হিটস্ট্রেসের প্রকোপ ত্বরান্বিত হচ্ছে।
- জাতীয় পরিকল্পনা ও সম্পদ বরাদ্দের ঘাটতি: জলবায়ু নীতিমালায় পানি ও কৃষির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সম্পদ ও কারিগরি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। গবেষকরা সিওপি৩১ (COP31) সম্মেলনের আগেই জলবায়ু অর্থায়নের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বাস্থ্য সহনশীল অবকাঠামো গঠনে বরাদ্দের জোর তাগিদ দিয়েছেন।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: উষ্ণায়ন এবং তাপপ্রবাহ এখন কেবল একটি পরিবেশগত রূপান্তর নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার সরাসরি অস্তিত্ব সংকট।
গ্রিনপেজ মনে করে, অবিলম্বে ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ বা তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন করে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করার পাশাপাশি জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য তহবিল শক্তিশালী করা জরুরি।
