বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের স্পর্শকাতর প্রতিবেশ ব্যবস্থা এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী ও কঠোর পরিবেশগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বন বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সমাবেশ ‘রাস মেলা’ সুন্দরবনের দুবলার চরে এবার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত ৩ দিনের ধর্মীয় পুজো ও পুণ্যস্নানের অনুমতি দেওয়া হলেও বাণিজ্যিক মেলা ও যত্রতত্র পর্যটক চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের মূল বিষয়বস্তু ও বনাঞ্চল সুরক্ষার নির্দেশিকা: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও নদী-খালের প্লাস্টিক দূষণ রোধে বেশ কিছু কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
-
বন্যপ্রাণী ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: প্রতিবছর রাস মেলাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করায় ব হরিণ শিকারের ঝুঁকি এবং প্রচুর পরিমাণে এককালীন প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে পড়ার ঘটনা ঘটে। কেবল পুণ্যার্থীদের নিবন্ধন সাপেক্ষে সুনির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল: সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় যেন কোনো অননুমোদিত মেলা, উচ্চশব্দে স্পিকার বাজানো কিংবা হরিণ শিকারের ফাঁদ প্রস্তুত না করা হয়, সে লক্ষ্যে বনরক্ষীদের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: ধর্মীয় রীতি ও অনুভূতি শ্রদ্ধার যোগ্য হলেও সুন্দরবনের মতো একটি অতি-সংবেদনশীল ইকোসিস্টেমের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা দেশের অস্তিত্বের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনপেজ মনে করে, সরকারি এই কঠোর বিধিনিষেধ সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলকে বর্জ্যমুক্ত রাখতে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
