বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক ও বর্জ্য দূষণ রোধের পাশাপাশি চরম উষ্ণায়ন কমাইতে আন্তর্জাতিক নীতিমালায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া সিওপি৩১ (COP31) সম্মেলনকে সামনে রেখে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বাগতিক তুরস্ক এবং জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সচিবালয় (UNFCCC) যৌথভাবে ‘সিওপি৩১ অ্যাকশন এজেন্ডা’ ও ১০টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র প্রকাশ করেছে।
এই এজেন্ডার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিপজ্জনক বর্জ্য সৃষ্টি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট’ (Zero Waste) নীতি বাধ্যতামূলক করা।
এজেন্ডার মূল কৌশল ও বৈশ্বিক বাধ্যবাধকতা: বিশ্বমঞ্চে বাণিজ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে যেসব নতুন বিশ্ব লক্ষ্যমাত্রা পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে:
-
বর্জ্য হ্রাস ও মিথেন নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক ও মিথেন গ্যাস নিঃসরণ রুখতে ‘জিরো ওয়েস্ট ফাউন্ডেশন’ ও জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক স্তরে টেকসই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক পণ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব বাড়ানোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
-
বৈশ্বিক বিদ্যুতায়ন ও কার্বন নির্গমন: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সার্বিক বিদ্যুতায়নে নবায়নযোগ্য রূপান্তরের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক উন্মোচন করা হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: শুধু জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন নয়, বরং প্লাস্টিক ও অপরিকল্পিত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করা ছাড়া জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া অসম্ভব।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, সিওপি৩১-এর এই ‘জিরো ওয়েস্ট’ কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তা প্লাস্টিক দূষণের শিকার বাংলাদেশের মতো সমুদ্র-উপকূলীয় দেশগুলোর সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
