শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই রাজধানী ঢাকার বাতাস আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বৈশ্বিক বায়ুমান তদারকি সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir)-এর রিয়েল-টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই (AQI) স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৭০—যা বাতাসকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই দূষণমাত্রার কারণে বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা শীর্ষ ৪র্থ স্থানে উঠে এসেছে, যা নগরের বয়স্ক ও শিশুদের জন্য মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মূল তথ্য ও বায়ুদূষণ পরিস্থিতি: আইকিউএয়ার এর তথ্য এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় শীতকালীন দূষণের প্রধান চালকগুলো উঠে এসেছে:
-
শুষ্ক আবহাওয়া ও ধূলিকণার মাত্রা: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় নির্মাণকাজ, মেগা প্রজেক্ট ও অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে কণা দূষণ (PM2.5) ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও আগাম সতর্কতা: বায়ুমান ১৭০ অতিক্রম করায় শিশু, গর্ভবতী নারী ও ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বাইরে বের হলে ভালোমানের মাস্ক ব্যবহারের এবং নগরবাসীকে ঘরবাড়ির আশপাশে পানি ছিটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: শীতকালে ঢাকার বায়ুদূষণ এখন এক নিয়মিত বার্ষিক রূপ ধারণ করেছে। গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু সাময়িক সতর্কবার্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে উন্মুক্ত নির্মাণকাজ বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানো বাধ্যতামূলক না করলে এই স্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়।
