বাংলাদেশ এখন আর কেবল তৈরি পোশাক রপ্তানি করে না; ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ‘কার্বন ক্রেডিট’ বিক্রেতা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
সুন্দরবনের কার্বন শোষণ করার ক্ষমতাকে পুঁজি করে বাংলাদেশ গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের অন্যতম নতুন উৎস।
কার্বন ট্রেডিং কী?
বিশ্বের বড় বড় উন্নত দেশ এবং কোম্পানিগুলো (যেমন: মাইক্রোসফট, অ্যামাজন) যারা প্রচুর কার্বন নিঃসরণ করে, তারা তাদের সেই দায় মেটানোর জন্য সুন্দরবনের মতো অরণ্য রক্ষায় অর্থ প্রদান করে।
২০২৬ সালে সুন্দরবনের প্রতিটি গাছের জন্য একটি ‘ডিজিটাল কার্বন আইডি’ তৈরি করা হয়েছে। ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, গাছগুলো কতটুকু অক্সিজেন ছাড়ছে এবং কতটুকু কার্বন শুষছে।
অর্থ সরাসরি স্থানীয় মানুষের হাতে
এই আয়ের ৫০% সরাসরি সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামবাসীর মোবাইল ওয়ালেটে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ এখন বনের কাঠ কাটতে যায় না, বরং একটি গাছ বড় হলে তারা সরাসরি অর্থ পায়। ‘গাছ বাঁচালে টাকা’—এই মন্ত্রে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে জ্যামিতিক হারে।
বৈশ্বিক প্রভাব
২০২৬ সালে বাংলাদেশে একটি নিজস্ব ‘কার্বন এক্সচেঞ্জ’ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিঙ্গাপুর এবং লন্ডনের পর ঢাকা এখন এশিয়ার কার্বন ট্রেডিংয়ের অন্যতম হাব।
সুন্দরবন এখন কেবল একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের এক বিশাল ‘অক্সিজেন ব্যাংক’, যা সারা বিশ্বকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
