পরিবেশ ধ্বংস এখন ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’: আইসিসি-এর নতুন নীতিমালায় কাঁপছে অপরাধীরা
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ২০২৬ সালের শুরুতেই একটি যুগান্তকারী নীতিমালা ঘোষণা করেছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত এবং ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞকে এখন থেকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বা কিছু ক্ষেত্রে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
রোম স্ট্যাটিউটের এই নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব করপোরেট প্রধান বা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা আমাজন বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চল ধ্বংস, ব্যাপক সমুদ্র দূষণ বা বিষাক্ত বর্জ্য পাচারের সাথে জড়িত, তাদের এখন আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা অবৈধ খনি এবং বন্যপ্রাণী পাচারের ক্রমবর্ধমান ঘটনার কারণে। ইন্টারপোলের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিবেশগত অপরাধ এখন মাদক পাচারের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় লাভজনক অবৈধ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে আমাজন রেইনফরেস্টে অবৈধ স্বর্ণ খনন এবং কঙ্গো অববাহিকায় গাছ কাটার ফলে কেবল জীববৈচিত্র্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানবাধিকারও চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আইসিসি এখন এই অপরাধগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সর্বোচ্চ আওতায় নিয়ে এসেছে।
আইইউসিএন (IUCN)-এর সাম্প্রতিক অধিবেশনেও পরিবেশগত অপরাধ দমনে দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন নীতিমালার ফলে পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এখন কেবল জরিমানা বা সিভিল মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি সরাসরি ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়বদ্ধতায় পরিণত হচ্ছে।
এর অর্থ হলো, কোনো কোম্পানির সিইও যদি জানতেন যে তাদের প্রকল্প পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছে, তবুও ব্যবস্থা নেননি, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে ‘ইকোসাইড’ (Ecocide) বা পরিবেশ হত্যার বিরুদ্ধে লড়াইকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ঘানা, ফিলিপাইন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে বিশেষায়িত পরিবেশ আদালত স্থাপন শুরু করেছে। তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে।
স্যাটেলাইট ইমেজিং এবং ব্লকচেইন ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ট্র্যাকিং ব্যবহার করে এখন এই অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালটি তাই পরিবেশগত বিচারের ইতিহাসে একটি ‘অপ্রতিরোধ্য বছর’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
