ইউরোপের সিবিএএম (CBAM) নীতি: জলবায়ু সুরক্ষায় কঠোর বাণিজ্য আইন এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ (CBAM)। এটি মূলত একটি কার্বন কর, যা লোহা, ইস্পাত, সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম এবং সারের মতো কার্বন-নিবিড় পণ্য আমদানির ওপর আরোপ করা হচ্ছে।
এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো ‘কার্বন লিকেজ’ রোধ করা—অর্থাৎ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যেন কঠোর পরিবেশ আইনের হাত থেকে বাঁচতে কম নিয়ন্ত্রণ থাকা দেশগুলোতে কারখানা সরিয়ে না নেয়।
২০২৬ সাল থেকে এই আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে, তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর ট্রানজিশন ফেজ বা প্রস্তুতিমূলক সময় চলছে। যুক্তরাজ্যও ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৭ সাল থেকে তারা নিজস্ব সিবিএএম চালু করবে।
এই নতুন নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো একে ‘সবুজ সুরক্ষা রক্ষা’ (Green Protectionism) হিসেবে অভিহিত করছে। তাদের মতে, এটি তাদের রপ্তানি সক্ষমতাকে কমিয়ে দেবে এবং এটি মূলত উন্নত দেশগুলোর একটি অর্থনৈতিক কৌশল।
এই উত্তজনা নিরসনে এবং সহযোগিতার হাত বাড়াতে গড়ে উঠেছে ‘ক্লাইমেট ক্লাব’ (The Climate Club)। এর লক্ষ্য হলো শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে পরিবেশগত মানদণ্ডকে সমপর্যায়ে নিয়ে আসা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে গ্রিন টেকনোলজির মাধ্যমে তাদের শিল্পকে কার্বনমুক্ত করতে সাহায্য করা।
ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি কিছু ছাড় এবং কারিগরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট পরিমাপ ও কমানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে নীতি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই করের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জলবায়ু তহবিলে ফেরত না দেওয়া হয়, তবে এটি একটি নতুন ধরনের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে নিট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ অপরিহার্য হলেও, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।
