ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূল রক্ষায় বাংলাদেশ এখন আর কেবল কংক্রিটের বাঁধের ওপর নির্ভর করছে না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপকূলে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং কোস্টাল ওয়াল’।
এটি মূলত কৃত্রিম ঝিনুক ও ম্যানগ্রোভ শৈবাল দিয়ে তৈরি একটি জীবন্ত প্রাচীর, যা সমুদ্রের বিধ্বংসী ঢেউকে প্রকৃতির সাহায্যেই শান্ত করছে।
সমুদ্রের তীরে বিশেষ ধরণের কংক্রিট ফ্রেম বসানো হয়েছে যেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে ঝিনুক ও কলাম বসতি স্থাপন করে। এই ঝিনুকগুলো সময়ের সাথে সাথে বিশাল এক পাথুরে প্রাচীর তৈরি করে।
২০২৫ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দেখা গেছে, এই প্রাকৃতিক প্রাচীর সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তিকে প্রায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রাচীরগুলো কেবল ভাঙন রোধ করে না, বরং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যকেও রক্ষা করে।
২০২৬ সালে দেখা যাচ্ছে, এই প্রাচীরগুলোর চারপাশে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বেড়েছে। জেলেরা এখন তীরের কাছাকাছিই প্রচুর মাছ পাচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের এই মডেলকে ‘সস্তা ও টেকসই’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করছে যে প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ না করে প্রকৃতির সাহায্য নিয়েই প্রকৃতিকে রক্ষা করা সম্ভব।
