চট্টগ্রামের পাহাড়ে বন উজাড় এবং পাহাড় ধস ছিল একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে চালু হয়েছে ‘ডিজিটাল ফরেস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট’। এটি এমন একটি প্রকল্প যেখানে স্থানীয় আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের বন সংরক্ষণের জ্ঞানকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
পাহাড় ধস নিরোধক সেন্সর
পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে ‘সয়েল ময়েশ্চার সেন্সর’। বৃষ্টির জল যখন মাটির গভীরে গিয়ে মাটিকে আলগা করে দেয়, তখন এই সেন্সরগুলো তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠায়। ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তির ফলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা শূন্যে নেমে এসেছে।
বিরল ভেষজ উদ্ভিদের ডিজিটাল ম্যাপিং
পার্বত্য বনের গভীরে অনেক মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে। আদিবাসীদের সহায়তায় এগুলোর একটি ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ওষুধি গাছের ওপর এনএফসি (NFC) চিপ লাগানো হয়েছে যাতে চোরাকারবারীরা সেগুলো চুরি করতে না পারে। ২০২৬ সালে এই ভেষজ বাগান থেকে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
পর্যটন ও সংরক্ষণ
আদিবাসী গাইডরা এখন এআর (AR) প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটকদের বনের ইতিহাস ও জীববৈচিত্র্য দেখান। ২০২৬ সালের এই চট্টগ্রামের পাহাড় এখন একটি ‘টেক-ইকো’ ট্যুরিজম স্পট। প্রকৃতি রক্ষা করে কীভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা যায়, তার অনন্য উদাহরণ এটি।
