১০এপ্রিল, ২০২৬ রোজ শুক্রবার সকাল ৯ ঘটিকায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং বন্যাঢ্য সাইকেল র্যালীর মাধ্যমে দেশের ১৫তম সাইকেল লেন দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।
এই আয়োজনে বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা, ব্রেন অ্যান্ড লাইফ হসপিটাল, কেরানীগঞ্জ ইউনাইটেড সাইক্লিস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ সাইক্লিস্ট, মিরপুর স্টান বয়েজ ক্লাব, গ্রীন পেইজ নিউজ পোর্টাল, গ্লোবাল স্টাডি, বিডি ট্যুরিস্ট সাইক্লিস্টসহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠন।
বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদসহ সমমনা ৯টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপিত হয়। এবারের ১৫তম বাংলাদেশ সাইকেল লেন দিবস এর প্রতিবাদ্য ছিল “সাইকেল লেন ও সাইকেল পার্কিং ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এর মাধ্যমে পরিবেশ বাঁচাই, জ্বালানি সাশ্রয় করি, সুঠাম দেহ গড়ে তুলি এবং যানজট কমাইা“
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুববুস। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. ওয়াহেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ড. এম. হেলাল।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন গ্রীন পেইজ নিউজ পোর্টালের সম্পাদক এবং পরিবেশবিদ প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রেন অ্যান্ড লাইফ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকরুল হোসেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের প্রভাষক মোঃ আব্দুল আলীম এবং কেরানীগঞ্জ ইউনাইটেড সাইক্লিস্টের সভাপতি মোঃ রফিকুল হাসান, বিএসজিএফ এর সহ কোষাধ্যক্ষ আবতাবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাইক্লিস্টদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাইকেল কেবল একটি বাহন নয়; এটি শৈশবের স্বাধীনতা, জীবনের রোমাঞ্চ এবং পরিবেশবান্ধব চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ সাইকেল ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নাই। তবে শহরাঞ্চলে আনুমানিক দুই লক্ষাধিক সাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মোটরযান ও সাইকেলের একসঙ্গে চলাচল নিরাপদ নয়। দেশে পর্যাপ্ত সাইকেল লেনের অভাবে সাইক্লিস্টরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
বক্তাগণ বলেন, এছাড়াও দেশের পাবলিক পার্ক, হাট-বাজার, খেলার মাঠ, হাট-বাজার, পবলিক প্লেস, অফিস-আদালত, এর্পাটমেন্ট বিল্ডিং, বাসা-বাড়িতে পর্যাপ্ত মোটরগাড়ী ও মোটর সাইকেল এরং পার্কিং এর ব্যবস্থা গাড়ীর কোথায়ও সাইকেল পাকিং নাই। ঢাকার বসুন্ধরা সিটি সপিং মলসহ কয়েকটি বিপনী বিতানে বাই সাইকেল এর পার্কি ব্যবস্থা থাকলেও অন্য সব বিপনী বিতান, এমন কি সরকারী কোন বিপনি বিতানেও সাইকেল পাকিং এর কোন সুবিধা নাই।
নিরাপদ পার্কিং এর অভাবে বাইসাইকেল চুরি হওয়ার সংশয় থাকে, তাই একদিকে যেমন দেশে সাইকিলষ্টদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও সাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহী হচ্ছে। ফলে দেশে বাইসাইকেল এর প্রসার ঘটছে না।
বাইসাইকেল এর পরিবর্তে মোটর যানের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে -যার ফলে পরিবেশ বির্পযয় ঘটচ্ছে, জ্বালানী খাতে দেশের বৈদিশক মুদ্রার ব্যয় বাড়ছে, শহরাঞ্চলে যানঝট বৃদ্ধি পাচ্ছে, নাগরিক সুস্বাস্থের জন্য হুমকী সৃষ্টি করছে।
এ প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বত্র নিরাপদ সাইকেল লেন ও পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন ও সময়ের দাবী।

বক্তারা একটি সুস্বাস্থ্যবান জাতি গঠন এবং সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাইক্লিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকাস্থ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সাইকেল র্যালিটি দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় একই স্থানে এসে সমাপ্ত হয়।
