উর্দ্ধমুখী অরণ্য
ঢাকা এখন আর কেবল কংক্রিটের জঙ্গল নয়; ২০২৬ সালের শুরুতে এই মহানগরী রূপান্তরিত হচ্ছে একটি ‘লিভিং ইকোসিস্টেম’-এ।
গত দুই বছরের তীব্র দাবদাহ সামাল দিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে চালু করেছে ‘ভার্টিক্যাল ফরেস্ট্রি গাইডলাইন ২০২৬’। এর ফলে ঢাকার অন্তত ৩০% নতুন ভবনে এখন বাধ্যতামূলকভাবে বন সৃজন করা হচ্ছে।
কেন এটি ২০২৬ সালের সেরা ট্রেন্ড?
শহরের ‘হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট’ বা তাপমাত্রার বৈষম্য কমাতে গাছ লাগানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ২০২৬ সালে ঢাকার অধিকাংশ করপোরেট অফিস এবং আবাসিক ভবনের দেয়ালে লাগানো হয়েছে বিশেষ ধরণের বায়ো-প্যানেল।
এতে এমন সব উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়েছে (যেমন: বিশেষ প্রজাতির মানিপ্ল্যান্ট এবং ফার্ন), যা বাতাসের অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) শুষে নিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ভবনে এই ‘ভার্টিক্যাল ফরেস্ট’ আছে, সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার ৪০% কমে গেছে।
গ্রিন ট্যাক্স ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা
সরকার ২০২৬ সাল থেকে একটি বিশেষ ‘গ্রিন রিবেট’ ঘোষণা করেছে। যেসব ভবন মালিক তাদের ভবনের অন্তত ৪০% এলাকা সবুজে ঢেকে দিতে পারবেন, তারা হোল্ডিং ট্যাক্সে ২৫% পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন।
এর ফলে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন ‘সবুজ ভবন’ তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এটি কেবল পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং আবাসন ব্যবসার নতুন মার্কেটিং টুলে পরিণত হয়েছে।
প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা
এই অরণ্য রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘স্মার্ট হাইড্রোফোনিক’ সিস্টেম। প্রতিটি গাছের গোড়ায় থাকা সেন্সর মাটির আর্দ্রতা মেপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জল দেয়।
এমনকি বৃষ্টির জল ধরে রেখে তা পুনরায় সেচ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই ঢাকা এখন বিশ্বের কাছে ‘আরবান কুলিং’ বা শহর শীতলীকরণের একটি জীবন্ত গবেষণাগার।
