কংক্রিটের জঙ্গল হিসেবে পরিচিত ঢাকা শহর ২০২৬ সালে এসে তার রূপ বদলাতে শুরু করেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০২৫ সালের মাঝামাঝি যে ‘সবুজ ইমারত বিধি’ (Green Building Code) বাধ্যতামূলক করেছিল, তার ফল এখন দৃশ্যমান।
বনানী, ধানমন্ডি এবং পূর্বাচলে গড়ে উঠছে একের পর এক ‘ভার্টিক্যাল ফরেস্ট’ বা খাড়া বন। এটি কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং ঢাকার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কমানোর একটি বৈজ্ঞানিক সমাধান।
তাপমাত্রার পার্থক্য ও বায়ুর মান আমাদের অনুসন্ধানে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যেসব ভবনে এই ‘ভার্টিক্যাল ফরেস্ট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব ভবনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আশেপাশের সাধারণ ভবনের চেয়ে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।
এর ফলে এসির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ভবনগুলোর দেওয়ালে থাকা বিশেষ লতাগুল্ম ও গাছগুলো ঢাকার বিষাক্ত ধূলিকণা (PM 2.5) শুষে নিচ্ছে, যা বায়ুর মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
২০২৬ সালের এই ভবনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ এবং ‘স্মার্ট সেন্সর’ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বৃষ্টির জল ধরে রেখে গাছেদের জল সরবরাহ করে। রাজউকের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ঢাকার সব নতুন ভবনের অন্তত ২০ শতাংশ এলাকা সবুজে ঢাকা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই সবুজ বিপ্লব কেবল পরিবেশ নয়, নাগরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। ‘সবুজ ভবন’গুলোতে বসবাসকারীদের মানসিক চাপ কম এবং ফুসফুসের রোগের হার ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ঢাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মেগাসিটি হিসেবে ‘আরবান ফরেস্ট্রি’র দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
