আফ্রিকার নামিবিয়া এক সময় কেবল মরুভূমির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেশটি বিশ্বের ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
১০ বিলিয়ন ডলারের ‘হাইফেন’ (Hyphen) প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সফলভাবে শুরু হয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ভূ-রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মানচিত্র বদলে দিচ্ছে।
নামিবিয়ার উপকূলে বসানো হয়েছে কয়েক হাজার বায়ুকল (Wind Turbine) এবং বিশাল সোলার ফার্ম। এই নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রের জল থেকে হাইড্রোজেন আলাদা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই প্রকল্পটি প্রতি বছর ১ মিলিয়ন টন গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যা সরাসরি জার্মানি এবং জাপানের শিল্পাঞ্চলগুলোতে রপ্তানি করা হবে।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রকল্প নামিবিয়ার জিডিপি সরাসরি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পরিবেশবাদীদের একাংশ উদ্বিগ্ন যে, বিশাল ডেসালিনেশন প্ল্যান্টগুলো সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করতে পারে।
কিন্তু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা দাবি করেছেন, তারা ‘সার্কুলার ডেসালিনেশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন যেখানে কোনো বিষাক্ত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে না।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর ইউরোপ যখন বিকল্প জ্বালানির জন্য হাহাকার করছিল, নামিবিয়ার এই হাইড্রোজেন প্রকল্পটি তখন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালে হাইড্রোজেন এখন আর কেবল একটি গ্যাস নয়, এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে।
