এতদিন জিডিপি (GDP) গণনা করা হতো কেবল শিল্প ও বাণিজ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে অনেক দেশ তাদের অর্থনীতিতে ‘নেচারাল ক্যাপিটাল কারেন্সি’ যোগ করেছে।
এটি এমন এক ডিজিটাল মুদ্রা, যা কোনো দেশ বা গোষ্ঠী কেবল তখনই অর্জন করতে পারে যখন তারা বন বা সমুদ্র রক্ষা করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ধরুন, একটি গ্রাম যদি তাদের পাশের ম্যানগ্রোভ বনটি রক্ষা করে, তবে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে বনের ঘনত্ব মেপে তাদের ডিজিটাল ওয়ালেটে ‘ইকো-কয়েন’ জমা হবে।
এই কয়েনগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট হিসেবে কেনাবেচা করা যায়। ২০২৬ সালে এই ব্যবস্থার ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। মানুষ এখন একটি গাছ কাটলে কত টাকা পাবে তার চেয়ে একটি গাছ বাঁচিয়ে রাখলে কত ডিজিটাল মুদ্রা আয় হবে, তা নিয়ে বেশি উৎসাহী।
এই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক প্রভাব গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এখন আর কোনো সেবামূলক কাজ নয়, বরং এটি একটি লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে।
আফ্রিকার অনেক দেশ এই মুদ্রা ব্যবহার করে তাদের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করছে। এটি অর্থনীতির সংজ্ঞাকেই বদলে দিয়েছে—এখন প্রকৃতি ধ্বংস করা মানে নিজের সম্পদ হারানো। ২০২৬ সালের এই ‘ইকো-ইকোনমি’ প্রমাণ করছে যে, আমরা যদি প্রকৃতিকে মূল্য দিই, তবে প্রকৃতি আমাদের অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী করতে পারে।
