ভবিষ্যতের পোশাক: প্যাসিভ রেডিয়েটিভ কুলিং ফ্যাব্রিক যা শরীরকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ঠান্ডা রাখে
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জনস্বাস্থ্য এবং কর্মক্ষমতা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (UniSA) এবং চীনের গবেষকরা এক বৈপ্লবিক ‘প্যাসিভ রেডিয়েটিভ কুলিং ফ্যাব্রিক’ উদ্ভাবন করেছেন।
এই বিশেষ কাপড়টি কোনো ব্যাটারি বা বিদ্যুৎ ছাড়াই পরিধানকারীর শরীরের তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এটি মূলত পদার্থবিজ্ঞানের একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী নীতি—’রেডিয়েটিভ কুলিং’ বা বিকিরণ শীতলীকরণ ব্যবহার করে কাজ করে।
এই কাপড়টি তৈরি করা হয়েছে একটি বায়োডিগ্রেডেবল পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (PLA) ফাইবার দিয়ে, যার ভেতরে বোরন নাইট্রাইড ন্যানোশিট (BNNS) যুক্ত করা হয়েছে। এই ন্যানোশিটগুলো অত্যন্ত দক্ষ তাপ পরিবাহী। এটি সূর্যের আলোর ৯৬% প্রতিফলন করে ফিরিয়ে দেয় এবং শরীরের তাপকে অবলোহিত রশ্মি (Infrared Radiation) হিসেবে মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়।
সাধারণ সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে কিন্তু তাপ আটকে রাখে, যা আর্দ্র আবহাওয়ায় অস্বস্তি তৈরি করে। কিন্তু এই নতুন কাপড়টি ঘাম দ্রুত বাষ্পীভূত করতে সাহায্য করে এবং পরিবেশের তাপকে শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
এই উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক গুরুত্ব অপরিসীম। নির্মাণ শ্রমিক, জরুরি সেবা কর্মী এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য এই পোশাক জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। এটি এসির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক শক্তি সাশ্রয় করবে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই কাপড়টি রোল-টু-রোল পদ্ধতিতে শিল্প পর্যায়ে উৎপাদন করা সম্ভব এবং এটি ধোয়ার যোগ্য।
পরিবেশের জন্য বাড়তি সুবিধা হলো, এই কাপড়টি সম্পূর্ণ পচনশীল, তাই ব্যবহারের শেষে এটি কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করবে না। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে এই প্রযুক্তিটি খেলাধুলার পোশাক এবং ক্যাম্পিং গিয়ারে ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এটি এমন একটি উদ্ভাবন যা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির মাধ্যমেই আমরা উষ্ণ বিশ্বের সাথে অভিযোজিত হতে পারি।
