আপনি কি জানেন আজ দুপুরের লাঞ্চে যে বার্গারটি খেয়েছেন বা যে জামাটি কিনলেন, তার জন্য কতটুকু কার্বন নির্গত হয়েছে? ২০২৬ সালে এই প্রশ্নের উত্তর এখন সবার স্মার্টফোনে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে ‘পার্সোনাল কার্বন পাসপোর্ট’ (Personal Carbon Passport)।
এটি এমন একটি ডিজিটাল সিস্টেম যা আপনার প্রতিদিনের কেনাকাটা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে একটি কার্বন স্কোর তৈরি করে। এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে ট্রেন্ডি এবং প্রভাবশালী সামাজিক সংস্কার।
এই পাসপোর্টের ধারণাটি হলো—প্রতিটি নাগরিকের জন্য বছরে একটি নির্দিষ্ট ‘কার্বন বাজেট’ বরাদ্দ থাকবে। যদি কেউ বিমানে বেশি যাতায়াত করে বা অতিরিক্ত রেড-মিট খায়, তবে তার কার্বন বাজেট দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
বাজেট শেষ হয়ে গেলে তাকে অতিরিক্ত কার্বন ট্যাক্স দিতে হবে অথবা অন্য কারো কাছ থেকে (যিনি কম কার্বন খরচ করেছেন) ক্রেডিট কিনতে হবে। একে বলা হচ্ছে ‘কার্বন সোশ্যাল ক্রেডিট’। অনেক রেস্টুরেন্ট এবং সুপারমার্কেট এখন পণ্যের দামের পাশাপাশি তার ‘কার্বন ভ্যালু’ ডিসপ্লে করছে।
এই ট্রেন্ডের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন ‘লো-কার্বন লাইফস্টাইল’ একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যারা সাইকেলে অফিস যাচ্ছেন বা সেকেন্ড-হ্যান্ড কাপড় কিনছেন, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে উচ্চ কার্বন স্কোর দেখে মানুষ উৎসাহিত হচ্ছে। তবে এর সমালোচনাও কম নয়।
অনেকেই একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের জলবায়ু সংকটের তীব্রতা মানুষকে এই কঠোর নিয়ম মানতে বাধ্য করছে। এই পাসপোর্ট ব্যবস্থাটি আমাদের শেখাচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কেবল সরকার বা বড় কোম্পানির দায়িত্ব নয়, প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অপরিসীম।
