21.9 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ২:১৫ | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
পেরোভস্কাইট সোলার সেল, সৌরশক্তির সিলিকন যুগ অবসানের মহাবিপ্লব,পেরোভস্কাইট, সোলার সেল,সৌরশক্তি ,সিলিকন যুগ, মহাবিপ্লব
আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরিবেশ গবেষণা পরিবেশ বিজ্ঞান

পেরোভস্কাইট সোলার সেল: সৌরশক্তির ‘সিলিকন যুগ’ অবসানের মহাবিপ্লব

সৌরশক্তির জগতে দীর্ঘ চার দশকের একঘেয়েমি ভেঙে ২০২৬ সালে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটেছে। এতদিন আমরা যে নীল রঙের সিলিকন প্যানেলগুলো দেখে অভ্যস্ত ছিলাম, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমা (Efficiency Limit) ছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি এবং চীনের গবেষকরা যৌথভাবে ‘পেরোভস্কাইট-সিলিকন ট্যানডেম সেল’ (Perovskite-Silicon Tandem Cells) বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এনেছে, যা সৌরশক্তির রূপান্তর সক্ষমতায় ৩৬.২ শতাংশের এক ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং এটি জীবাশ্ম জ্বালানির কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক লড়াই সিলিকন প্যানেলগুলো সূর্যের আলোর কেবল একটি নির্দিষ্ট বর্ণালী (Spectrum) শোষণ করতে পারে, যার সর্বোচ্চ সক্ষমতা সাধারণত ২০-২২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু পেরোভস্কাইট হলো একটি বিশেষ ধরণের কৃত্রিম স্ফটিক কাঠামো যা আলোর নীল এবং অতিবেগুনি অংশ শোষণ করতে দক্ষ।

বিজ্ঞানীরা যখন এই দুটি স্তরকে একসাথে যুক্ত করেছেন, তখন এটি সূর্যের আলোর প্রায় পুরোটাই বিদ্যুতে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন প্যানেলগুলো আগের চেয়ে অর্ধেক ওজনে তৈরি হচ্ছে এবং এগুলো নমনীয় (Flexible), ফলে জানালার কাঁচ বা বাঁকা ছাদেও এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।

আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত পেরোভস্কাইটের প্রধান সমস্যা ছিল এর স্থায়িত্ব (Durability)। আর্দ্রতা বা রোদে এই কোষগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু ২০২৫ সালে ন্যানো-এনক্যাপসুলেশন (Nano-encapsulation) প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে ২০২৬ সালে এই প্যানেলগুলোর গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে ২৫ বছর।

সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো উৎপাদন খরচ। সিলিকন প্যানেল তৈরি করতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, যা ব্যয়বহুল। বিপরীতে পেরোভস্কাইট সাধারণ মুদ্রণ প্রযুক্তির (Inkjet Printing) মতো কম তাপমাত্রায় তৈরি করা যায়। ২০২৬ সালে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট ০.০১ ডলারে নেমে এসেছে, যা কয়লা বা গ্যাসের চেয়ে অন্তত ৫ গুণ সস্তা।

এই প্রযুক্তির ফলে বাংলাদেশ বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো, যেখানে জমির অভাব রয়েছে, তারা এখন অল্প জায়গায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।

২০২৬ সালে ঢাকার বহুতল ভবনগুলোর জানালার কাঁচে এই স্বচ্ছ পেরোভস্কাইট লেয়ার বসিয়ে ভবনগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশ আসবে এই নতুন প্রজন্মের সৌরশক্তি থেকে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত