রাতের শহর মানেই সারি সারি ইলেকট্রিক ল্যাম্পপোস্ট। কিন্তু ২০২৬ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহর এক অদ্ভুত সুন্দর রূপ ধারণ করেছে। সেখানে রাস্তার লাইটগুলো কমিয়ে দিয়ে রোপণ করা হয়েছে ‘বায়ো-লুমিনেসেন্ট’ বা স্ব-আলোকিত গাছ।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জোনাকি পোকার আলোক উৎপাদনকারী জিন উদ্ভিদের ডিএনএ-তে প্রবেশ করিয়ে এই বিস্ময়কর গাছগুলো তৈরি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এটি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্প।
এই গাছগুলো দিনের বেলা সূর্যের আলো সঞ্চয় করে এবং রাতে মৃদু কিন্তু স্পষ্ট আলো দেয়। এর ফলে শহরের বিদ্যুৎ খরচ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং আলোক দূষণ (Light Pollution) হ্রাস পেয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০২৬ সালে এই প্রযুক্তি কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নয়, বরং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের পাশাপাশি শহরের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার একটি কার্যকর উপায়। প্রতিটি গাছ এখন একেকটি প্রাকৃতিক ল্যাম্পপোস্ট হিসেবে কাজ করছে।
অর্থনৈতিকভাবে এটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনগুলোর জন্য এক বিশাল সাশ্রয়। একটি মাঝারি শহরের রাস্তার বাতির পেছনে বছরে যে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ হয়, তা এখন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
২০২৬ সালে অনেক উন্নয়নশীল দেশও এই প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই কৃত্রিম আলোর ফলে নিশাচর প্রাণীদের জীবনচক্রে কোনো প্রভাব পড়ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
২০২৬ সালের এই ‘আলোর জঙ্গল’ আমাদের একটি রূপকথার মতো পৃথিবীর আভাস দিচ্ছে, যেখানে প্রকৃতি নিজেই আমাদের পথ দেখাবে।
