৫ই জুন ২০২৬: আজারবাইজানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের প্রস্তুতি এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ হবে আজারবাইজান। রাজধানী বাকু-তে আয়োজিত এই বিশাল বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের মূল থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমাধান এবং স্থিতিস্থাপকতা’।
২০২৪ সালে সফলভাবে কপ-২৯ (COP29) আয়োজন করার পর আজারবাইজান এখন তাদের অর্থনীতিকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে বিশ্বের সামনে একটি মডেল তৈরি করছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর প্রধান লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা। এবারের কর্মসূচিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘যাযাবর প্রজাতি’ (Migratory Species) সংরক্ষণের ওপর।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিযায়ী পাখি এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের গতিপথ বদলে যাচ্ছে, যা বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪২টি নতুন বিপন্ন প্রজাতিকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
আজারবাইজান সরকার এই দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী কোটি কোটি গাছ রোপণ এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ (Zero Waste) উদ্যোগের প্রচার শুরু করেছে। এছাড়া, কাস্পিয়ান সাগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
এবারের সচেতনতামূলক প্রচারণায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। এআই-চালিত অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রতিদিনের কার্বন ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করতে পারছে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের জন্য পুরস্কৃত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করা হচ্ছে। ইউএনইপি-এর নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেছেন, “আজারবাইজান যেভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কাটিয়ে সবুজ রূপান্তরের দিকে হাঁটছে, তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক অনুপ্রেরণা।”
২০২৬ সালের এই দিবসটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হবে না, বরং এটি হবে একটি বৈশ্বিক আন্দোলন যা প্রতিটি মানুষকে মনে করিয়ে দেবে যে, এই পৃথিবী আমাদের সকলের এবং এর সুরক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
