বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে এবং কৃষিজমি না কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে ২০২৬ সালে এক বড় সাফল্য এসেছে কাপ্তাই হ্রদে।
সেখানে চালু হয়েছে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশের প্রথম বড় মাপের ‘ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ বা ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি কেবল বিদ্যুৎ দিচ্ছে না, বরং হ্রদের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় এক অদ্ভুত ভূমিকা পালন করছে।
এই সোলার প্যানেলগুলো হ্রদের জলের ওপর ভেসে থাকায় একটি বড় সুবিধা হলো—এগুলো জলের বাষ্পীভবন (Evaporation) রোধ করছে।
এর ফলে শীতকালেও হ্রদে জলের স্তর বজায় থাকছে, যা কাপ্তাই হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্টের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে। গবেষকরা দেখেছেন, প্যানেলের নিচে থাকা শীতল জল সোলার প্যানেলকে ঠান্ডা রাখে, যা এর কার্যক্ষমতা ১০-১২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন যে প্যানেলের কারণে মাছের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্যানেলের নিচের ছায়াযুক্ত এলাকা মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে। সেখানে শৈবালের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত থাকায় মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকার পরিকল্পনা করছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বড় জলাভূমি ও হাওর অঞ্চলে এই ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছড়িয়ে দেওয়ার। এটি বাংলাদেশের ‘গ্রিন এনার্জি গ্রিড’কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
