মাইসেলিয়াম চামড়া
২০২৬ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইক একটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো যেমন গুচি এবং হার্মিস ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০২৬ সাল থেকে পশুর চামড়ার ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।
তাদের নতুন সংগ্রহের মূল উপাদান হলো ‘মাইসেলিয়াম’ (Mycelium) বা মাশরুমের শিকড় থেকে তৈরি চামড়া। ফ্যাশন দুনিয়ায় এই আমূল পরিবর্তনকে বলা হচ্ছে ‘দি গ্রেট লেদার শিফট’।
মাইসেলিয়াম চামড়া বা ‘মাশরুম লেদার’ ল্যাবরেটরিতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব, যেখানে একটি পশুর চামড়া পেতে বছরের পর বছর সময় লাগে।
এছাড়া, পশুপালনের জন্য যে বিশাল পরিমাণ জমি ও জলের অপচয় হয়, এই প্রযুক্তিতে তার ৯৯% সাশ্রয় হয়। ২০২৬ সালের এই নতুন চামড়া কেবল টেকসই নয়, বরং এটি সাধারণ চামড়ার চেয়েও মজবুত এবং ছিদ্রহীন। এমনকি এতে প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া-রোধী গুণাগুণ রয়েছে।
এই বিপ্লবের অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ইতালির ঐতিহ্যবাহী লেদার ইন্ডাস্ট্রি এখন মাশরুম ফার্মিংয়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে এই বাজারের মূল্য ইতিমধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পরিবেশবাদীরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও উন্নয়নশীল দেশের চামড়া শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে ফিউচারিস্টরা বলছেন, ২০২৬ সালের এই ট্রেন্ডটি প্রমাণ করে যে স্টাইল এবং নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। মাশরুম এখন আর কেবল খাবারের প্লেটে নয়, বরং আমাদের ফ্যাশন স্টেটমেন্টেও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
