বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থায় ২০২৬ সাল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। মেঘনা নদীতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো দেশের প্রথম সবুজ হাইড্রোজেন-চালিত ফেরি—‘জলদূত-১’। এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এমন একটি পরিবহন যা কোনো কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই শত শত যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করতে সক্ষম।
হাইড্রোজেন কেন ২০২৬-এর জ্বালানি?
ডিজেল চালিত ফেরিগুলো এতদিন নদীর জলে তেল নিঃসরণ করতো এবং বাতাসে প্রচুর ধোঁয়া ছাড়তো। কিন্তু ২০২৬ সালে বাংলাদেশের উপকূলে স্থাপিত বিশাল উইন্ড টারবাইন (বায়ু শক্তি) ব্যবহার করে জল থেকে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হচ্ছে হাইড্রোজেন। এই হাইড্রোজেন এখন ফেরির ফুয়েল সেলে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়ে ইঞ্জিন চালাচ্ছে। এর একমাত্র বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত হলো বিশুদ্ধ জল।
পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রতি বছর বাংলাদেশের নৌ-খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার ডিজেল আমদানি করতে হতো। ২০২৬ সালের এই নিজস্ব হাইড্রোজেন উৎপাদন সেই নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনছে। এই ফেরিটি সাধারণ ফেরির তুলনায় তিনগুণ বেশি নীরব, ফলে নদীর শুশুক বা ডলফিনদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে না। ডেনমার্কের আর্থিক সহায়তায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব রুটে হাইড্রোজেন ফেরি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও গতি
অনেকে হাইড্রোজেন নিয়ে চিন্তিত থাকলেও ‘জলদূত-১’ এ ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক কার্বন-ফাইবার ট্যাংক, যা যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষম। এটি সাধারণ ডিজেল ফেরির চেয়ে ২০% বেশি দ্রুত এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০% কম। মেঘনার বুকে এই নীরব বিপ্লব বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করলো।
