সমুদ্রের অতল গহ্বরে ‘গোল্ড রাশ’: ডিপ-সি মাইনিং বনাম মহাসাগর রক্ষা
মহাকাশ গবেষণার চেয়েও এখন বেশি রোমাঞ্চকর এবং বিতর্কিত হয়ে উঠেছে সমুদ্রের তলদেশ। ২০২৬ সালের শুরুতে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন জোন’ (CCZ) নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি এবং পরিবেশবাদীদের মধ্যে এক তীব্র দ্বৈরথ শুরু হয়েছে। একে বলা হচ্ছে ‘ডিপ-সি মাইনিং গোল্ড রাশ’।
ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি এবং স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনীয় নিকেল, কোবাল্ট এবং ম্যাঙ্গানিজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বড় বড় কর্পোরেশনগুলো এখন সমুদ্রের ৪-৬ কিলোমিটার নিচে থাকা খনিজ পিণ্ড (Nodules) সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের এই গভীরতম অংশগুলো পৃথিবীর শেষ ‘অস্পর্শিত’ বাস্তুসংস্থান। এখানে এমন সব অণুজীব এবং প্রাণী বাস করে যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের তলদেশে খনির কার্যক্রম চালালে যে বিশাল পলিস্তর (Sediment plume) তৈরি হয়, তা কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এটি কেবল সামুদ্রিক প্রাণীদের শ্বাসরোধই করে না, বরং সমুদ্রের কার্বন শোষণ করার ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। এই সংবাদের প্রেক্ষাপটে ২০টি দেশ ইতিমধ্যে গভীর সমুদ্রে খনন কাজের ওপর একটি ‘গ্লোবাল মরারটোরিয়াম’ বা স্থগিতাদেশের জোরালো দাবি তুলেছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই খনিজগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। এক হিসাব অনুযায়ী, কেবল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেই যে পরিমাণ লিথিয়াম ও কোবাল্ট রয়েছে, তা দিয়ে পুরো বিশ্বের আগামী ১০০ বছরের ব্যাটারির চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে এই মুনাফার বিপরীতে পরিবেশগত ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র কর্তৃপক্ষ (ISA) এক বিশাল চাপের মুখে রয়েছে—তারা কি বাণিজ্যিক খননের অনুমতি দেবে নাকি পরিবেশ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে? এই বিতর্কটি এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সমুদ্রের অন্ধকার তলদেশের এই লড়াই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির উৎস কতটা ‘সবুজ’ হবে।
