সমুদ্রের ‘নীল কার্ব’ এবং ২০২৬-এর নতুন ব্লু ইকোনমি
২০২৬ সালে জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন স্থলভাগ ছাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানীরা এখন ‘নীল কার্বন’ (Blue Carbon) বা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান দ্বারা সঞ্চিত কার্বনকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ম্যানগ্রোভ বন, সমুদ্রতলের শৈবাল বা সি-উইড (Seaweed) এবং লোনা জলের জলাভূমিগুলো স্থলজ বনের তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত কার্বন শোষণ করতে পারে। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র সুরক্ষায় এবং ‘ব্লু কার্বন’ অর্থনীতিতে রেকর্ড বিনিয়োগ শুরু হয়েছে।
এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় অংশ হলো সামুদ্রিক শৈবাল বা সি-উইড চাষ। ২০২৬ সালে সি-উইড কেবল খাদ্য বা প্রসাধনী শিল্পে নয়, বরং বায়ো-ফুয়েল এবং গরু-ছাগলের খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর খাবারে সামান্য সি-উইড মিশিয়ে দিলে তাদের মিথেন গ্যাস নির্গমণ ৯০% পর্যন্ত কমে যায়।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাজার হাজার নতুন সি-উইড ফার্ম স্থাপিত হয়েছে, যা সমুদ্রের অম্লতা (Acidification) কমাতেও সাহায্য করছে।
আরেকটি বড় উদ্ভাবন হলো ‘ওশান থার্মাল এনার্জি কনভারশন’ (OTEC)। ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলোতে এমন সব প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে যা সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণ জল এবং গভীরের শীতল জলের তাপমাত্রার পার্থক্য ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
এটি সৌর বা বায়ু বিদ্যুতের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য কারণ সমুদ্রের তাপমাত্রা দিনে-রাতে সবসময় স্থির থাকে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সমুদ্রের জলকে লবণমুক্ত করে পানীয় জলে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা জলসংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে ২০২৬ সালে সমুদ্রের এই অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে কিছু বিতর্কও দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে ‘ডিপ সি মাইনিং’ বা গভীর সমুদ্রের খনিজ খনন নিয়ে পরিবেশবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির জন্য প্রয়োজনীয় নিকেল এবং কোবাল্ট সমুদ্রের তলদেশ থেকে তোলার চেষ্টা করছে কিছু বড় কোম্পানি।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এটি সমুদ্রের অজানা বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে গভীর সমুদ্র খননের ওপর একটি বৈশ্বিক স্থগিতাদেশ (Moratorium) আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের ‘নীল’ শক্তিকে রক্ষা করাই এখন ২০২৬ সালের পরিবেশগত কূটনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
