২০২৬ সালের মার্চ মাস। সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে এখন আর কেবল বাঘের গর্জন বা হরিণের পায়ের শব্দ শোনা যায় না, বরং বনের নিস্তব্ধতা ভেঙে মাঝে মাঝেই শোনা যায় ড্রোনের গুঞ্জন।
বন বিভাগ এবং দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে তৈরি ‘স্মার্ট প্যাট্রোলিং ২.০’ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন এখন বিশ্বের প্রথম ‘ডিজিটাল প্রোটেক্টেড ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষার এক বৈপ্লবিক মোড়।

ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মেলবন্ধন আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে সুন্দরবনের প্রতিটি দুর্গম এলাকায় এখন মানুষের পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় না। ‘বনের চোখ’ নামক বিশেষ ড্রোনগুলো জিপিএস ম্যাপ অনুসরণ করে প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কয়েকশ কিলোমিটার টহল দেয়।
এই ড্রোনগুলোতে রয়েছে থার্মাল ইমেজিং এবং এআই (AI) চালিত ক্যামেরা, যা বনের ভেতরে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা চোরাশিকারীর উপস্থিতি শনাক্ত করলে সাথে সাথে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে এই প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর সুন্দরবনে অবৈধ গাছ কাটা এবং হরিণ শিকার প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
২০২৬ সালের এই বিশেষ ফিচারে উঠে এসেছে ড্রোনের আরও একটি চমকপ্রদ ব্যবহার—‘সিড-বোম্বিং’ বা আকাশ থেকে বীজ ছিটানো। সুন্দরবনের যেসব ন্যাড়া অংশ বা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রয়েছে, সেখানে ড্রোন থেকে মাটির গোলকে মোড়ানো ম্যানগ্রোভ বীজ নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চের ডেটা অনুযায়ী, এর ফলে গত এক বছরে সুন্দরবনের বনাঞ্চল প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সুন্দরবন গবেষক ড. মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রযুক্তির এই ব্যবহার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার পাশাপাশি এর জীববৈচিত্র্যকেও নিরাপদ করেছে।
তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ড্রোনের শব্দ যেন বন্যপ্রাণীদের প্রজনন বা স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন না ঘটায়।” ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল শিল্ড প্রমাণ করছে যে, বন রক্ষা করতে হলে কেবল লাঠি-বন্দুক নয়, আধুনিক মস্তিষ্কেরও প্রয়োজন।
