জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি যখন ধ্বংসের মুখে ছিল, তখনই ২০২৬ সালের শুরুতে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় দেখলো দেশ।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সুপার-রাইস বিপ্লব-২৬’। এটি এমন এক ধানের জাত যা সাধারণ লবণাক্ততার চেয়ে তিনগুণ বেশি লবণাক্ত জলে শুধু বেঁচে থাকে না, বরং রেকর্ড পরিমাণ ফলন দেয়।
সুপার-রাইসের নেপথ্য বিজ্ঞান
CRISPR-Cas9 জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ধানের ডিএনএ-তে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে যা মাটির অতিরিক্ত সোডিয়াম শোষণ না করে সেটিকে ফিল্টার করতে পারে।
আগে যেসব জমিতে লবণাক্ততার কারণে ঘাসও জন্মাতো না, সেখানে এখন হেক্টর প্রতি ৬ টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই ব্রেকথ্রু প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে নতুন আশা
লবণাক্ততার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ উপকূল ছেড়ে ঢাকা বা বড় শহরে পাড়ি জমাতো, যাদের আমরা ‘ক্লাইমেট রিফিউজি’ বলতাম। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এই চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকরা এখন বছরে তিনবার ফসল ফলাতে পারছেন। এই নতুন কৃষি অর্থনীতি উপকূলীয় জেলাগুলোর মাথাপিছু আয় গত এক বছরে ১৫% বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও রপ্তানি সম্ভাবনা
ভিয়েতনাম, ভারত এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের এই ‘সুপার-রাইস’ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ এই উচ্চ-ফলনশীল ও সহনশীল ধানের বীজ রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে।
এটি কেবল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া কয়েকশ কোটি মানুষের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের উপকূল এখন আর কেবল কান্নার ইতিহাস নয়, বরং এটি এখন ‘রেজিলিয়েন্স’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর মূর্ত প্রতীক। ২০২৬ সালের এই কৃষি বিপ্লব আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সঠিক গবেষণা এবং বিনিয়োগ থাকলে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ জয় করা সম্ভব।
