নদীমাতৃক বাংলাদেশে জলবণ্টন নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে রাজনীতিকে ছাপিয়ে গুরুত্ব পেয়েছে ডাটা সায়েন্স। ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে চালু করেছে ‘স্মার্ট ব্রহ্মপুত্র রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম’। এটি আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক উদাহরণ।
কীভাবে কাজ করছে এই ডাটা শেয়ারিং?
দুই দেশের সীমানা জুড়ে হাজার হাজার আইওটি (IoT) সেন্সর বসানো হয়েছে। নদীর জলের গভীরতা, প্রবাহের গতি এবং পলি জমার হার সেকেন্ডে সেকেন্ডে ডাটা সেন্টারে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই সিস্টেমে কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ নেই, সব কিছুই এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে শুকনো মৌসুমে জলের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং বর্ষাকালে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
পরিবেশগত পুনরুদ্ধার
কেবল জল নয়, নদীর মাছেদের গতিবিধি এবং দূষণও এই সিস্টেমে ধরা পড়ে। ২০২৬ সালে ব্রহ্মপুত্রের চরে পরিকল্পিতভাবে বনায়ন করা হয়েছে এবং পলির সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুন নতুন দ্বীপ (চর) তৈরি করা হচ্ছে। এই চরগুলোতে এখন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।
আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি
এই স্মার্ট ম্যানেজমেন্টের ফলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের এই প্রজেক্টটি প্রমাণ করছে যে, বিজ্ঞানের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। ব্রহ্মপুত্র এখন আর কোনো বিবাদের উৎস নয়, বরং এটি দুই দেশের যৌথ সমৃদ্ধির এক বিশাল জলপথ।
