১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনা ও দরকষাকষির পর আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ‘হাই সিজ ট্রিটি’ (High Seas Treaty) বা ‘বিবিএনজে’ (BBNJ) চুক্তি।
এর ফলে বিশ্বের মহাসাগরগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা, যা কোনো দেশের সীমানার মধ্যে পড়ে না, প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর অধীনে এলো। এই সংবাদটি আজ বিশ্বের প্রতিটি বড় সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম।
এতদিন মহাসাগরের এই বিশাল এলাকা ছিল অনেকটা ‘আইনহীন বন’ বা ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’-এর মতো, যেখানে যে কেউ মাছ ধরতে পারত বা খনিজ আহরণ করতে পারত। কিন্তু আজ থেকে এই এলাকায় যেকোনো ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম (যেমন: ডিপ-সি মাইনিং বা বড় আকারের মাছ ধরা) পরিচালনা করতে হলে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কঠোর অনুমতি নিতে হবে।
২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রের ৩০% এলাকাকে ‘মেরিন প্রটেক্টড এরিয়া’ (MPA) হিসেবে ঘোষণা করা।
অর্থনৈতিকভাবে এই চুক্তির প্রভাব বিশাল। এখন থেকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য থেকে প্রাপ্ত কোনো জেনেটিক তথ্য (যেমন: নতুন ওষুধের ফর্মুলা) যদি কোনো কোম্পানি ব্যবহার করে, তবে তার লভ্যাংশের একটি অংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে শেয়ার করতে হবে। এটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
তবে কিছু উন্নত দেশ এবং বড় বড় মাইনিং কোম্পানি এই চুক্তির বিরোধিতা করছে, কারণ এটি তাদের অবাধ মুনাফায় বাধা দেবে। ২০২৬ সালের এই চুক্তিটি কেবল সমুদ্র নয়, বরং পুরো পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান রক্ষার শেষ আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
