ইউএনএফসিসি (UNFCCC) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান

২০২৬ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব জলবায়ু রাজনীতিতে এক বজ্রপাত সমতূল্য সংবাদ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প ২.০ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ জলবায়ু কাঠামো বা UNFCCC থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এটি প্যারিস চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার চেয়েও অনেক বড় ধাক্কা, কারণ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব জলবায়ু আলোচনার টেবিল থেকেই নিজেদের সরিয়ে নিল। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এর ফলে বিশ্ব এক নতুন ‘গ্রিন কোল্ড ওয়ার’-এ প্রবেশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলে (Green Climate Fund) এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে এই সুযোগে চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের নেতৃত্ব আরও সুসংহত করছে। তারা ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে তারা একজোট হয়ে ‘কার্বন বর্ডার ট্যাক্স’ আরও কঠোর করবে।
অর্থাৎ, যেসব দেশ পরিবেশ রক্ষায় পিছিয়ে থাকবে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে—একদিকে যারা জীবাশ্ম জ্বালানিকে আঁকড়ে থাকতে চাইছে, অন্যদিকে যারা নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে নতুন অর্থনীতি গড়তে চায়।
এর প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ছে। অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের সদর দপ্তর ইউরোপ বা এশিয়ার গ্রিন ইকোনমি জোনগুলোতে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। কারণ তারা মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবিরোধী নীতি তাদের ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
২০২৬ সালের এই ‘জলবায়ু বিচ্ছেদ’ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বিজ্ঞানসম্মত সমাধান থাকলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে পৃথিবী আজও কতটা অনিশ্চিত। এখন দেখার বিষয়, বাকি বিশ্ব কি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ‘নিট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে কি না।
