গাসিটি ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া হাজার হাজার টন পলিথিন ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক ড্রেন, খাল এবং বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলছে।
এই পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা বৃত্তাকার অর্থনীতি মডেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি নতুন ব্লু-প্রিন্ট গ্রহণ করেছে।
সার্কুলার ইকোনমি ও ইকো-ট্যাক্স: এই মডেলে প্লাস্টিককে বর্জ্য হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্ধিত উৎপাদক দায় (EPR): নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি প্লাস্টিক মোড়কে পণ্য বিক্রি করবে, তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য বাজার থেকে ফিরিয়ে নিয়ে রিসাইকেল করতে হবে।
- ইকো-ট্যাক্স: পরিবেশের ক্ষতি করে এমন প্যাকেজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা ইকো-ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদকরা পরিবেশবান্ধব বা বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং ব্যবহারে বাধ্য হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহার: শহরের বিভিন্ন স্থানে স্মার্ট ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে, যা সেন্সরের মাধ্যমে বর্জ্যের ধরন আলাদা করতে পারে। সংগৃহীত প্লাস্টিক আধুনিক মেশিনে গলিয়ে টেকসই রাস্তা নির্মাণের কাঁচামাল এবং প্লাস্টিক সুতা বা ‘পেট ফ্লেক্স’ তৈরি করা হচ্ছে, যা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির এই সার্কুলার অর্থনীতি কেবল পরিবেশকেই দূষণমুক্ত করবে না, বরং হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এই উদ্যোগ সফল করতে নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
