বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর নানা চেষ্টা সত্ত্বেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই অবস্থায় কেবল কার্বন নিঃসরণ কমানো নয়, বরং বায়ুমণ্ডলে ইতিমধ্যে জমা হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড সরাসরি শুষে নেওয়ার প্রযুক্তি ২০২৬ সালে এসে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একে বলা হচ্ছে ‘ডাইরেক্ট এয়ার ক্যাপচার’ (Direct Air Capture বা DAC) প্রযুক্তি।
প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি:
DAC প্রযুক্তিতে বিশাল আকারের ফ্যান বা শোষক যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস টেনে নেওয়া হয়। এরপর বিশেষ রাসায়নিক ফিল্টারের মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড আলাদা করা হয়।
- পাথরে রূপান্তর: শুষে নেওয়া এই কার্বনকে তরল করে মাটির নিচে হাজার ফুট গভীরে ব্যাসাল্ট পাথরের স্তরে ইনজেক্ট করা হয়। কয়েক বছরের মধ্যে এই কার্বন প্রাকৃতিকভাবে পাথরে পরিণত হয় এবং হাজার বছরের জন্য স্থায়ীভাবে জমা থাকে (Carbon Storage)।
- রিসাইক্লিং: ইউরোপ ও জাপানের কিছু প্রতিষ্ঠান এই ক্যাপচার করা কার্বনকে ব্যবহার করে পরিবেশ-বান্ধব সিন্থেটিক ফুয়েল এবং টেকসই প্লাস্টিক তৈরি করছে।
বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও কার্বন ক্রেডিট: ২০২৬ সালে এসে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে শুরু করেছে। ভেরা (Verra) এবং গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের মতো আন্তর্জাতিক কার্বন রেজিস্ট্রি সংস্থাগুলো এখন DAC প্রজেক্টের জন্য উচ্চ মূল্যের ‘কার্বন ক্রেডিট’ ইস্যু করছে।
বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও এভিয়েশন কোম্পানিগুলো তাদের নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কোটি কোটি ডলার দিয়ে এই কার্বন ক্রেডিট কিনছে। আইসল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক DAC প্ল্যান্টগুলো সাফল্যের সাথে কাজ করছে।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ: অসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই প্রযুক্তির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এর উচ্চ ব্যয় এবং প্রচুর পরিমানে শক্তির (Energy) প্রয়োজন হওয়া।
বাতাস থেকে কার্বন আলাদা করতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তা যদি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে, তবে এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। তাই আধুনিক প্ল্যান্টগুলো সম্পূর্ণ ভূ-তাপীয় (Geothermal) বা সৌরশক্তির সাহায্যে চালানো হচ্ছে।
কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি জলবায়ু সংকট সমাধানের কোনো জাদুকরী বিকল্প নয়, তবে এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের লড়াইয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী সম্পূরক মাধ্যম।
