পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল আজ এক ভয়াবহ ‘পরিবেশগত অপরাধ’ বা ইকোলজিক্যাল ক্রাইমের শিকার। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ ইটভাটার কারণে পাহাড়ের উপরের উর্বর মাটি (Topsoil) এবং প্রাচীন বনভূমি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় পরিবেশবাদীদের একটি যৌথ অনুসন্ধানে পাহাড় খেকোদের এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ইকোলজিক্যাল ক্রাইমের ভয়াবহতা: পাহাড়ের টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি তৈরি হতে শত শত বছর সময় লাগে, যা বনজঙ্গল ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার মূল ভিত্তি।
- পাহাড় কর্তন ও মাটির অবক্ষয়: অবৈধ ইটভাটার মালিকরা স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে এই উর্বর মাটি ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
- বনের কাঠ পোড়ানো: এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শতবর্ষী গাছ। ধোঁয়ার কারণে আশেপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে।
প্রতিরোধ ও আইনি উদ্যোগ: পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ইমেজিংয়ের মাধ্যমে গহীন পাহাড়ের এসব অবৈধ ভাটার অবস্থান চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ড্রোন ব্যবহার করে এসব ভাটায় ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভারী জরিমানা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে কেবল অভিযান নয়, বরং অবৈধ ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কঠোর জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করা প্রয়োজন। পাহাড় বাঁচলে তবেই বাঁচবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য।
