সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা বা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও, সম্প্রতি সেখানে ‘পরিবেশগত অপরাধ’ (Environmental Crime) এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা এবং স্থানীয় গবেষকদের এক গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, বাতিল জাহাজের আড়ালে উন্নত দেশগুলো থেকে টন টন বিষাক্ত ই-বর্জ্য (E-waste) এবং নিষিদ্ধ রাসায়নিক বাংলাদেশে ডাম্পিং করা হচ্ছে, যা চট্টগ্রামের উপকূলীয় ইকোসিস্টেমকে আক্ষরিক অর্থেই বিষাক্ত করে তুলেছে।
অপরাধের ধরন ও পরিবেশগত বিপর্যয়: বাতিল জাহাজগুলোর ভেতরে লুকানো অবস্থায় সিসা, পারদ, অ্যাসবেসটস এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে আসা হচ্ছে।
- সাগর ও মাটি দূষণ: এসব বিষাক্ত বর্জ্য কোনো রকম শোধন ছাড়াই সরাসরি বঙ্গোপসাগরের পানিতে এবং মাটিতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে উপকূলের কাঁকড়া, ঝিনুক ও সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
- শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া কাজ করা শ্রমিকরা ক্যান্সার এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রতিরোধ ও আইনি ব্যবস্থা: পরিবেশ অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড ২০২৬ সাল থেকে জাহাজ ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই অত্যাধুনিক স্ক্যানার দিয়ে জাহাজের বর্জ্য পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
উন্নত বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার এই আন্তর্জাতিক অপরাধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শিপব্রেকিং শিল্পকে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ নীতিমালায় পুরোপুরি বাধ্য না করলে সীতাকুণ্ডের উপকূল চিরতরে মৃত সাগরে পরিণত হবে।
