দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অপরিকল্পিত পর্যটন এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। তবে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় বর্তমান নতুন সরকার এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা পরিবেশবাদীদের কাছে এক যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাস্তবায়ন ও পরিবেশগত প্রভাব:
- পর্যটক নিয়ন্ত্রণ: নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না। নভেম্বর থেকে জানুয়ারির নির্দিষ্ট সময়গুলোতে রাত্রিযাপনেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
- সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ: দ্বীপে চিপসের প্যাকেট, পলিথিন এবং প্লাস্টিকের বোতল প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার: কোরাল বা প্রবাল ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ায় এবং মানুষের কোলাহল কমায় সামুদ্রিক কাছিম পুনরায় নির্বিঘ্নে ডিম পাড়তে পারবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্যিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সেন্ট মার্টিনকে বাঁচানোর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, নতুন সরকার পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি দেশের ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক।
