পরিবেশের জন্য কিছু ছাড় দিলে প্রকৃতি কতটা উদার হয়ে উঠতে পারে, তার একটি জীবন্ত উদাহরণ কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ। এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মেগা প্রকল্পটি পরিবেশগত কারণে বাতিল করার পর, দ্বীপটি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
সম্প্রতি পাখি পর্যবেক্ষক এবং আইইউসিএন (IUCN)-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন পরিযায়ী পাখি ‘চামচঠুঁটো বাটান’ (Spoon-billed Sandpiper) কয়েক বছর পর আবারও সোনাদিয়ার উপকূলে রেকর্ড সংখ্যায় ফিরে এসেছে।
নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস (New Life): চামচঠুঁটো বাটান বিশ্বব্যাপী একটি চরম বিপন্ন প্রজাতি; পৃথিবীতে এদের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ।
- নিরাপদ আশ্রয়: সোনাদিয়ায় মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়া এবং প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ) সংরক্ষণের ফলে এটি পরিযায়ী পাখিদের জন্য এক নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
- অন্যান্য প্রাণীর প্রত্যাবর্তন: কেবল পাখি নয়, এই দ্বীপে এখন বিলুপ্তপ্রায় অলিভ রিডলি কচ্ছপের ডিম পাড়ার হারও গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাগরে সামুদ্রিক ডলফিনের দেখাও মিলছে নিয়মিত।
ইকো-ট্যুরিজম ও সংরক্ষণ: সরকার এখন সোনাদিয়াকে সম্পূর্ণ ‘ইকো-ট্যুরিজম জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে কংক্রিটের কোনো স্থাপনা থাকবে না। পর্যটকরা কেবল দিনে গিয়ে পাখি ও প্রকৃতি দেখে ফিরে আসবেন।
উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস না করে, পরিবেশকে তার নিজের মতো করে সেরে ওঠার সুযোগ দিলে কী চমৎকার ফল পাওয়া যায়, সোনাদিয়া দ্বীপ তার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত।
