বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনের (COP31) প্রস্তুতি হিসেবে আজারবাইজানের বাকুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু সপ্তাহ ২০২৪-এর ধারাবাহিকতায় চতুর্থ অধ্যায় বা ‘ইউএন ক্লাইমেট উইক ৪’ (UN Climate Week 4)।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, পরিবেশ বিজ্ঞানী, স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিল্পপতিরা একত্রিত হয়ে পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও বৈশ্বিক কৌশল: দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েওসুতে অনুষ্ঠিত বিগত জলবায়ু সপ্তাহের সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাকু সম্মেলনে মূলত বাস্তব অর্থনীতির সমাধানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কেবল গতানুগতিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত ডেটা সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কীভাবে কার্বন নিঃসরণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ ও কমানো যায়, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
- বাস্তবায়নের যুগে বৈশ্বিক তহবিল: শিল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন ও গ্রিন এনার্জি রূপান্তরের জন্য প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ের বিষয়টি এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে হিমালয় ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জলবায়ুজনিত চরম বিপর্যয় এড়াতে বৈশ্বিক তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু কূটনীতির টেবিলে অন্তহীন আলোচনার সময় ফুরিয়ে এসেছে; এখন দরকার সরাসরি মাঠপর্যায়ে কঠোর ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, বাকুর এই জলবায়ু সপ্তাহে বিশ্বনেতারা যদি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যবাধকতামূলক রূপরেখা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হন, তবে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রকে চরম ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
