জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কৃষিজমি তাদের উর্বরতা হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD) থেকে ‘গ্লোবাল সয়েল হেলথ ইনিশিয়েটিভ ২০২৬’ (Global Soil Health Initiative 2026) ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ মিলিয়ন হেক্টর ক্ষয়প্রাপ্ত মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা।
মাটির অবক্ষয় ও বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: মাটি জীবন্ত এবং এর মধ্যে কোটি কোটি অণুজীব বা মাইক্রোবায়োম থাকে যা উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায়। নিবিড় চাষাবাদ এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে মাটির ভেতরের এই উপকারী অণুজীবগুলো মারা যাচ্ছে।
এর ফলে ফসলের পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশে এই মরুকরণ তীব্র রূপ নিয়েছে।
২০২৬ সালের বৈশ্বিক সমাধান কৌশল: জাতিসংঘের এই নতুন উদ্যোগে মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
- রিলিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার: জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার, কম্পোস্ট এবং কভার ক্রপ (আচ্ছাদন ফসল) চাষের মাধ্যমে মাটির কার্বন ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো।
- অণুজীব প্রযুক্তির ব্যবহার: মাটিতে কৃত্রিমভাবে নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়া এবং উপকারী ফাঙ্গাস (Mycorrhizae) প্রয়োগ করা, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটিকে উর্বর করে।
- প্লাস্টিক মুক্ত মাটি আইন: কৃষিতে ব্যবহৃত মালচিং ফিল্ম এবং প্লাস্টিক কণার প্রবেশ রোধে কঠোর আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন।
মাটি ভালো না থাকলে সুস্থ মানব সভ্যতা অসম্ভব। ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক আন্দোলনটি সফল করতে হলে উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশের কৃষকদের আধুনিক জৈব-প্রযুক্তি এবং টেকসই চাষাবাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
